ত্বককে বার্ধক্যের ছাপ থেকে রক্ষা করতে এক চা চামচ মুলতানি মাটির সাথে এক চা চামচ টক দই এবং একটি ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এবার এটি সারা মুখে ভালো মত লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি ত্বক টানটান করে এবং স্কিন টোন সমান করতে সাহায্য করে।
* ব্রণের সমস্যা যদি খুব বেশি হয়ে থাকে তাহলে কিছু নিম পাতা বেটে মুলতানি মাটির সাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগান। ১০-১৫ মিনিট রেখে মুখ ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণের সমস্যা কমে যাবে।
* অনেকেরই একটা কমন সমস্যা হল যে হাত পায়ের রঙ মুখের রঙ থেকে কালো হয়। এই সমস্যা সমাধানে পরিমাণ মত মুলতানি মাটি, বেসন এবং কাঁচা হলুদ বাটা মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন।
এবার এই মিশ্রণটি হাত পায়ে ভালো মত লাগিয়ে ২০-৩০ মিনিট বা শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন এবং এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন গোসলের আগে এটি ব্যবহার করতে পারেন। এটি হাত পায়ের ত্বক উজ্জ্বল এবং নরম করে।
ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও মসৃনতা আনার জন্য মধু এবং লেবু দ্বারা তৈরী ফেসপ্যাক ব্যাবহার করতে পারেন।
উপাদানঃমধু এবং লেবুর রস ।
প্রণালীঃ
প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে পুরো মুখমন্ডল ভালো ভাবে পরিষ্কার করে নিন। এরপর সতেজ লেবুর রস এবং আধা চামচ ফ্রেশ মধু (আপনি ইচ্ছে করলে ভালো কোনো ব্রান্ডের অন্য মধুও ব্যবহার করতে পারেন) ভালোভাবে মিশিয়ে মিশ্রনটি মুখে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। ঠান্ডা পানি দিয়ে আলতো করে মুখটা ধুয়ে ফেলুন। এবার আপনি নিজেই লক্ষ্য করে দেখুন আপনার মুখমন্ডলের উজ্জ্বল দ্যুতিময়তা।
লেবুর রস আপনার ত্বকের মৃত কোষ গুলোকে সরিয়ে ফেলতে সাহায্য করে, সেই সাথে আপনার ত্বকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি এর যোগান দেয়। মধু এবং লেবু আপনার ত্বকের আদ্রতা বজায় রাখে এবং ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে। এই মিশ্রণটি আপনার মুখের মেছতা ও অবাঞ্ছিত দাগও দুর করতে সহায়তা করবে। তবে এ্যালার্জি জনিত সমস্যা থাকলে এই প্যাকটি ব্যাবহার না করাই ভালো।
শিশুদের ত্বক খুবই স্পর্শকাতর হওয়াতে শীতকালে শিশুদের নরম ত্বক জলীয়বাষ্প হারিয়ে ফেলে শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে ওঠে তার সাথে দেখা দেয় নানাবিধ সমস্যা।
তাইতো আমাদের ছোট্ট সোনামনিদের শীতের শুষ্ক ও রুক্ষ পরিবেশে ত্বকের জন্য চাই বিশেষ যত্ন। এই শুষ্ক মৌসুমে শিশুর বাবা মাকে থাকতে হবে বিশেষ সতর্ক আর মূল কথা হলো শীতে শিশুর ত্বকের যত্ন নিতে বাড়তি প্রস্ততির কোন বিকল্প নেই। শীতে শিশুর ত্বকের কোমলতা ও ময়েশ্চারাইজার এর ভারসাম্য ঠিক রাখা আসলেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মনে রাখবেন শিশুর ত্বক যেমন বড়দের ত্বক থেকে ভিন্ন ঠিক তেমনি শিশুর ত্বকের যত্ন নেয়ার পদ্ধতিও ভিন্ন। আসুন জেনে নেয়া যাক কিভাবে তে শিশুর ত্বকের যত্ন নিয়ে শুষ্কতা, রুক্ষতা ও চর্ম রোগের হাত থেকে রক্ষা করা যায়।
আসলে শীতে শিশুর ত্বকের যত্ন তার দৈনন্দিন পরিচর্যার বিষয় গুলোর মধ্যেই একটু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করে সেরে ফেলা সম্ভব। আর এটা বাস্তবায়ন করতে পারলে শিশুর ত্বক থাকবে কোমল এবং আপনি থাকবেন নিশ্চিন্ত। আশাকরি নিচের বিষয় গুলো পড়ে আপনি পেয়ে যেতে পারেন শীতে শিশুর ত্বকের সমস্যার সমাধান।
শীতে শিশুর গোসল শীতকালে শিশুকে গোসল করাতে হবে হালকা গরম পানি দিয়ে কেননা ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করালে যেমন ঠান্ডা লেগে যাবার ভয় থাকে পাশাপাশি বেশি গরম পানি দিয়ে গোসল করালেও ত্বকের আর্দ্রতা হারিয়ে যায়। সুতরাং শিশুর ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে ও ঠান্ডার হাত থেকে রক্ষা করতে গোসলে ব্যবহার করুন কুসুম গরম পানি। তবে শীতকালে ২ বছরের কম বয়সি শিশুকে প্রতিদিন গোসল করানোর প্রয়োজন নেই। এক্ষেত্রে এক দিন পর পর গোসল করালেই শিশুর ত্বক ভালো থাকবে।
শিশুর ত্বকোপযোগী সাবান শিশুর গায়ে সাবান ব্যবহারে অনেক সতর্ক থাকুন কারন শিশুদের ত্বক বড়দের তুলনায় ৫ গুণ পাতলা। আর সাবান দিয়ে গোসল করালে সাবান যেন ময়েশ্চারসমৃদ্ধ ও শিশুর ত্বকের উপযোগী হয়। যে সাবানের পিএইচ মাত্রা শিশুর ত্বকের পিএইচ মাত্রার সমান, সে রকম সাবান শিশুর ত্বকের জন্য উপযোগী। সেই সাথে তার শরীর পরিস্কারে অবশ্যই বেবি সোপ ব্যবহার করুন এবং কিছুতেই বড়দের সাবান লাগানো যাবেনা কারন বড়দের সাবানের উপাদান তার ত্বক আরো বেশি শুষ্ক করে ফেলে ও শিশুর ত্বকে র্যাশ, অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে।
শিশুর ত্বক উপযোগী তেলের ব্যবহার শিশুদের দেহে তেলের ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সব ধরনের তেল শিশুদের জন্য উপযোগী নয়। বাচ্চাদের মাথার ত্বকে এক্সট্রা ভার্জিন গ্রেড নারকেল তেল অল্প পরিমাণে ব্যবহার করতে পারেন। তাছাড়া শিশুকে নিয়মিত অলিভ অয়েল দিয়ে মাসাজ করতে পারেন। শিতকালে শিশুর ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। এক্ষেত্রে অনেক কার্যকরী উপাদান হোয়াইট সফট প্যারাফিন বা ফসপোলিপিড সমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার শিশুর ত্বকের জন্য উপকারী। শিশুকে অলিভ অয়েল বাথও দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে এক বালতি পানিতে পাঁচ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। এতেও শিশুর ত্বক নরম হবে। এ ছাড়া গোসলের পরও ভেজা ত্বকে অলিভ অয়েলের সঙ্গে সামান্য পানি মিশিয়ে শিশুর শরীরে ম্যাসাজ করে লাগান। ভালো ময়েশ্চারাইজারের কাজ করবে। সবচেয়ে ভালো হয়, যদি লিনোলেইক অ্যাসিড-সমৃদ্ধ তেল ব্যবহার করা যায়। এটি একধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড, যা ত্বকের সুরক্ষা দেয়। সূর্যমুখী তেলে এটি বেশি থাকে। যাদের একজিমা আছে, তাদের অলিভ অয়েল ব্যবহার না করাই ভালো।
লক্ষণীয় ত্বকের রোগ সাধারনত এক বছরেরও কম বয়সি শিশুদের ইনফ্যানটাইল সেবোরিক ডার্মাটাইটিস নামের এক ধরনের ত্বকের রোগ হয়ে থাকে। এসময় শিশুদের মাথায় অনেক খুশকি হয় সেই সাথে গলায়, বগলে, থাইয়ের খাঁজে, ন্যাপি এরিয়ায় লাল লাল দাগ ও হতে পারে। অনেক সময় চামড়া উঠতে শুরু করে ও মাঝেমধ্যে রস বের হয়। এ সমস্যা দূর করতে শিশুর মাথায় ও চুলে নিয়মিত নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েল লাগান। নবজাতকের মাথায় দুই থেকে তিন মাস তেল বা অলিভ অয়েল লাগালে এর নিরাময় হয়। আর ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে কিটোকোনিজল বা জিঙ্ক পাইরেথিওনসমৃদ্ধ শ্যাম্পু দিয়ে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার শিশুর চুল পরিষ্কার করুন। শীতে শিশুর পোশাক
শিশুর কাপড়চোপড় সাবান দিয়ে ধোয়ার পর পরিষ্কার পানিতে বারবার চুবিয়ে সম্পূর্ণ সাবানমুক্ত করে শুকানো উচিত। কারণ, সাবানের ক্ষারযুক্ত শুকনো কড়কড়ে কাপড় শিশুর নরম ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। সেইসাথে শিশুর পরিধেয় পোশাক অবশ্যই নরম ও মসৃণ হতে হবে। শিশুর পোশাক খসখসে ও অমসৃণ হওয়া উচিত নয় বরং সুতির হওয়াই বাঞ্ছনীয়। কারণ, ত্বকের জন্য সুতির কাপড়ই সবচেয়ে নিরাপদ। শীতকালে গরম কাপড়ের নিচে অবশ্যই একটি সুতি জামা পরাবেন।শীতের পোশাকের নিচে হালকা সুতির পোশাক পরানো হলে শিশু স্বস্তি পাবে।
বর্জনীয় বিষয় শিশুর শরীরের সরিষার তেল মাখাবেন না, সরিষার তেল শিশুর ত্বকের জন্য উপযোগী নয়। কারণ এই তেল মাখলে ত্বক চিটচিটে হয়ে যায়। ফলে ধুলাবালি সহজে ত্বকে আটকে যায়। আবার ঘন বলে এই তেল লোমকূপ বন্ধ করে দিয়ে সংক্রমণও ঘটাতে পারে। সরিষার তেল থেকে ফুসকুড়ি বা প্রদাহ হতে পারে। সরিষার তেল মাখিয়ে বাচ্চাকে রোদে রাখার যে প্রচলিত রীতি আছে তা একেবারেই অনুচিত। এতে ত্বকের পিগমেন্টেশন বেড়ে যায় এবং শিশু কালো হয়ে যায়। শিশুদের আদৌ তেল মাখার প্রয়োজন আছে কি না, এ নিয়েও বিশেষজ্ঞদের মাঝে মতের ভিন্নতা আছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, খুব ছোট শিশুদের, অর্থাৎ নবজাতকদের শরীরে তেল মাখালে তা লাভের চেয়ে ক্ষতিই করে বেশি। গবেষকেরা দেখিয়েছেন যে গায়ে তেল মাখেনি এমন বাচ্চাদের ত্বক বেশি মজবুত। আসলে আমাদের ত্বকের ওপরের পাতলা আবরণের নিচেই চর্বি বা ফ্যাটের স্তর থাকে। তেল মাখলে এই চর্বির স্তর পাতলা হয়, অর্থাৎ সুগঠিত হয় না। এর ফলে শিশুর শরীর সহজে শীতল হয়ে পড়তে পারে। এ ছাড়া ত্বকে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। একটু বড় বাচ্চাদের অবশ্য তেল মাখা যাবে।
নিয়ম মেনে ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক জিনিসগুলো এড়িয়ে চললে ত্বক সুস্থ রাখা যায়।মেয়েদের মত পুরুষদের ত্বকের ও যত্ন নেয়া
রোদ: আল্ট্রাভায়োলেট ত্বকের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। এ জন্য রোদে বের হওয়ার অন্তত ২০-৩০ মিনিট আগে আপনার ত্বকের জন্য মানানসই সানস্ক্রিনের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। রোদে পোড়া ভাব দূর করতে এটি সহায়ক, ত্বক ক্যান্সারও রোধ করে।
সুইমিংপুল : এ পানিতে ক্লোরিন থাকে, যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক। সুইমিং পুলের পানি ব্যবহার করে বাড়িতে এসে ত্বক ও চুল সাবান এবং শ্যাম্পু দিয়ে পরিষ্কার করা উচিত।
মানসিক চাপ : স্ট্রেস, বিষণ্ণতা, অপর্যাপ্ত ঘুম ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক। প্রয়োজনে মেডিটেশন, ইয়োগার সাহায্য নিন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে সব চাপ ভুলে হালকা হয়ে ঘুমাতে যান।
ধুলো-ধোঁয়া : যানবাহনের ধোঁয়া দূষণ ও ধুলা থেকে ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে। ঘরে ফিরে চিকিৎসকের পরামর্শে ক্লিনজার ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন।
ধূমপান : এটি শুধু শরীরের অভ্যন্তরে নয়, ত্বকেরও ক্ষতি করে।
অনেকেই ভাবেন শীতকালেই চুলে খুশকি হয়। তাই খুশকি নিয়ে ও অনেকের ভাবনা শেষ নেই। এই ভাবনা একদম ঠিক নয়। শুধু শীতের রুক্ষতাই নয়, অযত্নে-অবহেলাতেও চুলে খুশকি হয়। এ ছাড়া ধুলাবালিও এর কারণ। শরীরে প্রয়োজনীয় জলের অভাব পূরন না হলেও খুশকি হয়। খুশকির আরো কারন পেট পরিস্কার না থাকা।
সতর্কতা :
খুশকি মুক্ত চুলের জন্য নিয়মিত পরিচর্যা প্রয়োজন। চুল পরিস্কার রাখুন। একই সঙ্গে চিরুনি, ব্রাশ, তোয়ালে, বালিশের কাভার, বিছানার চাদর-এগুলো পরিস্কার রাখুন। কখনোই অন্যের এ জিনিসগুলো ব্যবহার করবেন না। নিজেরটাও করতে দেবেন না।
মাসে একবার পার্লারে গিয়ে হেয়ার ট্রিটমেন্ট করান কিংবা হেয়ার স্পা করুন। দিনে আট গ্লাস জল খান।
এক দিন পর পর শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। ধুলাবালি থেকে চুল বাঁচিয়ে চলুন। যা করা উচিত :
এখন শীতকাল।
এ সময় মাথার ত্বক শুস্ক হয়ে যায়। ফলে দেখা দেয় চুলের নানান সমস্যা। অনেকেই ভালো করে চুল পরিস্কার করেন না। যার কারনে খুশকি মাথায় জমে।
খুশকি দূর করতে হেয়ার ট্রিটমেন্ট করাটা জরুরি। এটি আপনি বাসায় বা পার্লারে গিয়েও করতে পারেন। কারণ বাড়িতে করলে অনেক ঝাক্কি-ঝামেলা থেকে রেহাই পাবেন। ট্রিটমেন্ট করার কিছু টিপস :
১. প্রথম কুসুম গরম তেল (সেটা নারিকেলও হতে পারে) এ তুলো ডুবিয়ে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করুন।
২. চুলের প্রত্যেকটি গোড়ায় ভালোমতো তেল ম্যাসাজ করা হয়ে গেলে হালকা গরম জলেতোয়ালে চুবিয়ে মাথায় ১০ মিনিট গরম ভাবটা নিতে হবে। এভাবে দুইবার ভাব নেবার পর ধীরে ধীরে ভালোমতো চুল আচড়াতে হবে।
৩. গরেম ভাপের কারণে মাথার ত্বকের খুশকি নরম হয়ে যাওয়ায় খুশকি ঝরে পড়বে।
৪. এরপর ভালো মানের একটা অ্যান্টি ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু দিয়ে মাথাটা ভালো করে ধুয়ে নিন।
৫.শ্যাম্পু করার পর আপনার চুল সর্ম্পূন রুপে পরিস্কার করুন।হেয়ার ড্রায়ার ব্যাবহার না করে ফ্যানের বাতাসে চুল শুকিয়ে নিন।
খুশকি থেকে রেহাই পেতে : চুলে খুশকি পড়লে বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান থেকেও সমাধান নিতে পারেন।যেমন
মেথি :
২/৩ টেবিল চামচ মেথি সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন খুব ভালো ভাবে পিষে নিবেন । তার পর এর সাথে এক টেবিল চামচ টক দই ও ১ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে মাথায় লাগিয়ে রাখুন৩০/৩৫ মিনিট । পরে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে শ্যাম্পু করুন ।
সপ্তাহে একবার করে করুন ।
লেবু এবং রসুন :
এক টেবিল চামচ লেবুর রসের সাথে দুই টেবিল চামচ রসুন পেস্ট মিশিয়ে একটি প্যাক বানান। এই প্যাক ফ্লেক থেকে আমাদের দূরে রাখে।
রসুন প্রাকৃতিক অ্যান্টি-বায়োটিক যা স্কাল্পের চারপাশে থাকা ব্যাকটেরিয়ার বংশ ধংস করে । এই অ্যান্টিডেনড্রাফ ট্রিটমেন্ট চুলে ২০-৩০ মিনিট লাগিয়ে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন।
পেঁয়াজের রস :
আমরা সবাই জানি পেয়াজের রস চুল গজাতে সাহায্য করে। এর আরেকটি গুনের দিক হল খুশকি সারাতেও কিন্তু উপকারী। পেঁয়াজের পেস্ট মাথার তালুতে লাগিয়ে ১ ঘন্টা অপেক্ষা করুন, পেঁয়াজের ঝাঁঝলো গন্ধ যদি আপনার জন্য অস্বস্তিকর হয় তাহয়ে কয়েক ফোটা লেবুর রসও মিশিয়ে নিতে পারেন।
মধু আর দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পিম্পলে লাগান এবং সকালে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। পরপর দুই সপ্তাহ এই পেস্ট পিম্পলে লাগান,
পিম্পল আর থাকবে না।
১০০ গ্রাম আলু চটকে নিয়ে ৫ফোঁটা গ্লিসারিন, ৫ মিলি গোলাপজল মিশিয়ে একটা প্যাক তৈরি করুন।গোসলের আগে মুখে এই প্যাকটি লাগান এবং ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন।
১০ মিলি গ্লিসারিন, ১০ মিলি গোলাপজল এবং ৫মিলি লেবুর রস মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন। মুখের যে জায়গায় প্রয়োজন সেখানে গোসলের এক ঘণ্টা আগে প্যাকটি লাগান এবং ম্যাসেজ করুন আলতোভাবে।
পেঁপের রস পিম্পলের জন্য খুবই উপকারী। পিম্পলের উপর পেঁপের রস লাগালে ভালো ফল পাওয়া যায়।
রসুন পিম্পলের জন্য খুবই উপকারী। রসুনের আটটি কোষ ভালোভাবে পেস্ট করে নিয়ে চোখের অংশটা বাদ দিয়ে মুখে লাগান। পনের মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন এবং পরে গরম কাপড় দিয়ে এটা মুখ থেকে ধুয়ে ফেলতে হবে।
আপেল কুঁচি কুঁচি করে কেটে নিয়ে মধুর সাথে মিশিয়ে মুখে লাগালে দারুণ কাজে আসে। মুখে ১৫-২০ মিনিট এই প্যাকটি লাগিয়ে রাখতে হবে।তারপর হাল্কা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।
পিম্পল চলে যাওয়ার পরমুখে যে দাগ থেকে যায় সেখানে চালের গুঁড়া, দই, এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে পেস্টকরে লাগান। হাল্কাভাবে ঘষুন এবং ১০ মিনিট পর ধীরে ধীরে এই প্যাকটি মুখ থেকে উঠিয়ে ফেলুন।
মেথি ভালো করে পেস্ট করে নিয়ে প্রতি রাতে মুখে লাগান এবং ১০-১৫ মিনিট রাখুন। কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বককে যে কোনো ধরণের দাগ, পিম্পল, ব্ল্যাকহেড,বলিরেখা ইত্যাদি থেকে দূরে রাখে।
পুঁদিনা পাতার রস প্রতি রাতে মুখে লাগান।এতে মুখের যে কোনো দাগ এবং পিম্পলের দাগ দূর হবে। সব কিছুর পরেও হাতকে মুখ থেকে দূরে রাখুন। এতে আপনার ত্বকের কোনোই লাভ হবে না।আপনার যদি খুশকির সমস্যা কিংবা তৈলাক্ত ত্বক থাকে তাহলে এগুলোকে পরিষ্কার রাখুন। যদি আপনার তৈলাক্ত চুল মুখে লাগে তা হলে এটি আরো বেশি তৈলাক্ত হয় এবং খুশকি পিম্পলের সৃষ্টি করে নিশ্চিতভাবেই।দিনে অন্তত তিনবার মুখ ভালো কোনো ক্লিনজার দিয়ে পরিষ্কার করুন। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।ফলমূল,শাকসবজি বেশি করে খাবার চেষ্টা করুন। রিল্যাক্স থাকুন এবং দিনে অন্তত আট ঘণ্টা ঘুমান।
আবহাওয়া এবং আমাদের যত্নআত্তির ত্রু টির কারণে চুলের সৌন্দর্য ধীরে ধীরে কমে আসছে। সকলেরই এখন চুল ঝরে পড়া কিংবা টাকের সমস্যা। এর পাশাপাশি কমে গিয়েছে চুল বাড়ার প্রক্রিয়াটিও। সহজে চুল লম্বাই হতে চায় না। এই সমস্যা সমাধান করবে ঘরোয়া কিছু প্রাকৃতিক উপায়। খুব সহজে আপনিও এই উপায়গুলো খাটিয়ে চুলের বেড়ে ওঠাকে নিশ্চিত করতে পারেন। নতুন চুল গজিয়ে চুল হবে ঘন, কালো, লম্বা।
পেঁয়াজের ব্যবহার সেই প্রাচীন কাল থেকে চুল বৃদ্ধির কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে পেঁয়াজ। পেঁয়াজের রসে রয়েছে সালফার যা চুলের কোলাজেন টিস্যুর বৃদ্ধি উন্নত করে এবং চুল বাড়তে সাহায্য করে দ্রুত।
লাল পেঁয়াজ ছোট ছোট করে কেটে নিয়ে একটি পাতলা পরিষ্কার কাপড়ে রেখে চিপে রস বের করে নিন। এই পেঁয়াজের রস পুরো মাথার ত্বকে ভালো করে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট পর মৃদু কোনো সাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ দিন ব্যবহার করুন এই পেঁয়াজের রস।
ডিমের হেয়ার মাস্ক ডিমের উচ্চ মাত্রার প্রোটিন চুলের ফলিকলে পুষ্টি প্রদান করে এবং চুল দ্রুত বৃদ্ধি নিশ্চিত করে। এই মাস্কের সালফার, জিংক, আয়রন, সেলেনিয়াম, ফসফরাস এবং আয়োডিন চুল দ্রুত বৃদ্ধি করে।
১ টি ডিমের সাদা অংশ নিন। এতে ১ টেবিল চামচ মধু এবং ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। চুলে ভালো করে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখুন। এরপর শ্যাম্পু করে চুল ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ১ দিন ব্যবহারে ভালো ফল পাবেন।
আলুর রসের ব্যবহার চুলের বৃদ্ধির কাজে আলুর রসের ব্যবহার অনেকেই জানেন না। কিন্তু আলুর ভিটামিন এ, বই এবং সি চুলের দ্রুত বৃদ্ধিতে বেশ সহায়ক।
আলু একেবারে ঝুড়ি করে নিয়ে খুব দ্রুত এর রস বের করে নিন। এই রস সরাসরি মাথার ত্বকে ভালো করে ঘষে লাগান। ১৫ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২/৩ বার ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাবেন।
মেহেদীর হেয়ার মাস্ক মেহেদী চুলের জন্য অনেক বেশি ভালো একটি উপাদান। চুল ঘন কালো ও লম্বা করতে মেহেদীপাতার তুলনা নেই।
১ কাপ পরিমান শুকনো গুড়ো মেহেদী অর্ধেক কাপ টকদই দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এই মেহেদীর মিশ্রণ চুলের আগা থেকে গোঁড়া এবং মাথার ত্বকে ভালো করে লাগান। শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত চুলে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্কটি সপ্তাহে ১ দিন ব্যবহার করবেন।