News Ticker

Menu

Browsing "Older Posts"

Browsing Category "লাইফস্টাইল"

দেয়ালজুড়ে শৌখিনতা

/ No Comments
ঘর সাজাতে চিত্রকর্ম, আধুনিক গৃহশৈলীর সংযোজন। অনেকেই আজকাল ফ্রেমবন্দি করে ব্যবহার করে থাকেন নানা ধরনের শিল্পকর্ম বা বিখ্যাত কোনো চিত্রকর্ম। হুটহাট পুরো ঘরের সৌন্দর্য বদলে দিতে এসব আর্টপিসের জুড়ি নেই। কখনো দেয়ালে ঝুলিয়ে কখনোবা মেঝে থেকে দেয়ালে হেলান দিয়ে রাখা হয় সেসব। কিন্তু কীভাবে কোথায় ঝুলিয়ে রাখলে ভালো দেখাবে, আর কোথায় হেলানো আর্টপিসই চমৎকার দেখায়, এ বিষয়ে ধারণা না থাকলে সুন্দর এই শিল্পকর্ম তার সৌন্দর্য প্রকাশ করতে অপারগ হয়ে উঠবে।

দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখার সুবিধা হচ্ছে, একসঙ্গে বেশ কয়েকটি ছবি বা আর্টপিস ঝোলানো যায় একই দেয়ালে। অর্থাৎ কয়েকটি আলাদা আলাদা লেয়ার বা ধাপ তৈরি করে ঝোলানো যায় সেসব। কিন্তু মেঝেতে রেখে দেয়ালে হেলান দিয়ে রাখা ছবি বা আর্টপিসের ক্ষেত্রে সে সুবিধা পাওয়া যায় না। মনে রাখবেন,

ঘরের আয়তন ছোট হলে দেয়ালের সামনে হেলান দিয়ে রাখা আর্টপিস ঘরের সৌন্দর্য না বাড়িয়ে কমিয়ে দেবে নিশ্চিত। ছোট ঘরকে আরো বেশি ছোট বলেই মনে হবে। সেক্ষেত্রে ছোট ঘরে দেয়ালের সঙ্গে হেলান দিয়ে না রেখে আর্টপিস ঝুলিয়ে দিন দেয়ালে। বড় আকৃতির কোনো আর্টপিস হলে মেঝে থেকে কমপক্ষে চার-পাঁচ ফুট উঁচুতে সেটি ঝোলানো উচিত। ছোট আকৃতির আর্টপিসের ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশি হলেও সমস্যা নেই। দুই দেয়ালের কোণে ঝুলিয়ে দিতে পারেন ছোট, হালকা ধরনের কোনো শিল্পকর্ম। তবে এমন যদি হয় কোণ তৈরি হওয়া স্থানটির আশপাশে বেশ বড় জায়গা রয়েছে, তাহলে দুই দেয়ালের সংযোগ স্থানকে ঢেকে সেখানকার মেঝেতে দেয়ালের সঙ্গে হেলান দিয়ে রেখে দিতে পারেন বড় কোনো শিল্পকর্মও।

দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখার সুবিধা হচ্ছে, একসঙ্গে বেশ কয়েকটি ছবি বা আর্টপিস ঝোলানো যায় একই দেয়ালে। অর্থাৎ কয়েকটি আলাদা লেয়ার বা ধাপ তৈরি করে ঝোলানো যায় সেসব। কিন্তু মেঝেতে রেখে দেয়ালে হেলান দিয়ে রাখা ছবি বা আর্টপিসের ক্ষেত্রে সে সুবিধা পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে এমন যদি হয় বেশ কয়েকটি আর্টপিস রাখতে হবে, তাহলে ঝুলিয়ে রাখার অপশনটি বেছে নিলেই ভালো।

অনেকেই হুটহাট ঘরের চেহারা বদলাতে চান, তাদের জন্য ঝুলিয়ে না রেখে হেলান দিয়ে রাখার পদ্ধতিটি বেছে নেয়াই উত্তম। দেয়ালে ঝোলানো মানেই দেয়াল ছিদ্র করে আলাদা হুক লাগিয়ে তবেই আর্টপিসটি রাখা। ফলে আর্টপিস সরিয়ে ফেলা হলে দেয়ালের সৌন্দর্য নষ্ট হয়। তাই ভালো সমাধান হচ্ছে দেয়ালের সঙ্গে হেলানো আর্টপিস। ঘরের চেহারা বদলে দিতে চাইলে সহজেই স্থান পরিবর্তন করা সম্ভব সেটির। তবে সবই নির্ভর করছে আপনার ঘরের আসবাব ও ইন্টেরিয়রের ওপর।

বাসায় ফিরেও অফিসের কাজ করে ডাকছেন বিপদ

/ No Comments
প্রতিদিনের দৌড়ঝাঁপে ব্যাপকহারে চাপ পড়ে শরীরে। চাপ নেওয়ার ফলে আমাদের শরীরে বাসা বাঁধে নানা ধরনের রোগ। রক্তচাপ থেকে শুরু করে, রক্তে শর্করার মাত্রা কিছুই নিয়ন্ত্রণে থাকে না। বাড়ে কোলেস্টেরলের মাত্রা, দেখা দেয় হার্টের সমস্যাও। তাছাড়া মানসিক অবসাদের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত চাপ।

চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিকিৎসকরা নিয়মমাফিক খাওয়াদাওয়া এবং শরীরচর্চার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে টেনশন কমাতে বললেই যেমন টেনশন কমে না, তেমনই চাপ সরানোর কিছু উপায় অবলম্বন করলেই যে চাপ চিরতরে চলে যাবে, এমন নয়। আসলে চাপের কারণ জানতে পারলে লড়াই অনেকটা সহজ হয়। ঠিক কী কারণে চাপ বাড়ছে তা জানলে নিয়ন্ত্রণ করতে পারা যায়।

আধুনিক গবেষণা বলছে, ব্যক্তিগত জীবনের চেয়ে কর্মস্থলের চাপ প্রায় তিনগুণ স্ট্রেসের মুখে ফেলছে। অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পরেও অফিস সংক্রান্ত মেসেজ, কল কিংবা ই-মেইল ঢুকতে থাকে প্রায় বিশ্বব্যপী ৫৪ শতাংশ মানুষের মোবাইলে। না চাইলেও অফিসের কাজ বাড়িতে এসে করতে হয় অনেককে। আসলে আমাদের জীবন গতি ও প্রযুক্তির দ্বারা প্রভাবিত হয় অনেক বেশি। ফলে আগে যে কাজ আমাদের অফিসের গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, তা খুব সহজেই এখন ঢুকে পড়ছে আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে।

সম্প্রতি ‘ভার্জিনিয়া টেক’ নামক একটি সংস্থা ‘কিলিং মি সফ‌্টলি: ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন মনিটরিং অ্যান্ড এমপ্লয়ি অ্যান্ড সিগনিফিক্যান্ট আদার ওয়েল বিয়িং’ শীর্ষক একটি গবেষণা করে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ছুটির পরেও অফিসের কাজ সারতে অথবা অফিস সংক্রান্ত মেসেজ কিংবা মেইলের উত্তর দিতে গিয়ে কর্মীরা তাদের ব্যক্তিগত দায়িত্বগুলো ঠিকভাবে পালন করে উঠতে পারছেন না। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তাদের ব্যক্তিগত জীবনও। এই সমীক্ষায় যুক্ত অন্যতম গবেষক উইলিয়াম বেকারের মতে, ফলে স্ট্রেস আর উদ্বেগ বাড়ছে, ক্রমশ কমছে উদ্ভাবনী ক্ষমতা।


এ থেকে বাঁচার উপায়
পরীক্ষা চালানো প্রায় ৩২২ জন মার্কিনিকে অফিসের চাপ থেকে সরিয়ে এনে ও বাড়ি ফিরে অফিস সংক্রান্ত আলোচনা বন্ধ করে সৃজনশীল কোনো কাজে অংশ নেওয়ানোর পর দেখা যায়, তাদের স্ট্রেসের প্রায় ৭৫ ভাগ উধাও হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্য দেশের ক্ষেত্রেও এমন ফল আসবে বলেই মত গবেষকদের। এ প্রসঙ্গে মনস্তত্ত্ববিদ অমিতাভ মুখার্জি জানান, কাজের চাপ শুধু অফিস বলে নয়, পেশাদার সব ক্ষেত্রেই রয়েছে। এ যুগে বেঁচে থাকার জন্য রুজি-রোজগারকে অবহেলা করলেও হয় না। এর সঙ্গে যুক্ত হয় নানা অফিসের বিভিন্ন নিয়ম। সব মিলিয়ে চাপ নিতে না চাইলেও চাপ নিয়ে ফেলি আমরা। অফিসের সহকর্মীদের মনোভাব, কাজের ধরন, কাজের সেক্টর, পরিবেশ সব কিছুর ওপরই এটা নির্ভর করে। তাই চেষ্টা করতে হবে চাপ এলেও কতটা নিয়ন্ত্রমে রাখা যায় তা, নইলে শরীর ও মন সবই সমস্যায় ফেলবে।

চিকিৎসকের পরামর্শ, খুব প্রয়োজন না থাকলে কাজের শেষে বাড়ি ফেরার পর আর অফিসের কাজে হাত দেবেন না। হয়তো ফোন বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। তাই চেষ্টা করুন, কাছে একটি বিকল্প ফোন নম্বর রাখার, যা আপনি অফিস সংক্রান্ত ব্যাপারে কখনোই ব্যবহার করবেন না। যদি তাও সম্ভব না হয়, তাহলে অফিস সংক্রান্ত মেসেজের উত্তর দেওয়া নিয়ন্ত্রণে আনুন।

এ ছাড়া স্ট্রেসের কারণ যদি আপনার ব্যক্তিগত জীবনে কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তা কাছের মানুষ ,বন্ধবান্ধবদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করুন। স্ট্রেস নিরাময়ের অন্যতন ভালো উপায় মেডিটেশন। নিয়মিত কিছু সময় বের করে নিয়ে মেডিটেশন করাও খুব জরুরি।


 সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।

বড় চুল যত্নে রাখার উপায়

/ No Comments
শ্যাম্পু থেকে তেল মাখা- চুলের যত্নে রয়েছে কতই না নিয়ম। এত নিয়মের ভিড়ে অন্তত সাতটি নিয়ম মেনে সহজেই দীঘল সুন্দর চুলের অধিকারী হওয়া সম্ভব।

রূপচর্চা-বিষ্য়ক একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়ের ওপর প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানানো হল বিস্তারিত।

চুলে ‘মাইল্ড’ শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার: চুলকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করতে পারে এমন তবে রাসায়নিক উপাদান কম এরকম কার্যকর মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। সোডিয়াম ল্যরাল সালফেটের জন্য ফেনা সৃষ্টি হয়। তবে এই উপাদান কাপড় ধোয়া সাবানেও পাওয়া যায়। এটা চুলে প্রাকৃতিক তেল শুষে নেয়। ফলে চুল হয়ে যায় নির্জীব, রুক্ষ ও ভঙ্গুর।

সঠিক উপায়ে চুলের প্রসাধনী ব্যবহার: মাথার ত্বকের ময়লা ও দূষণ দূর করতে মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে মাথার ত্বক পরিষ্কার করতে হবে। আগা ফাটার সমস্যা ও ক্ষয় পূরণ করতে কন্ডিশনার চুল জুড়ে ব্যবহার করতে হবে, মাথার ত্বকে নয়। চুলকে গভীরভাবে আর্দ্র রাখতে সতেজভাব ফিরিয়ে আনতে ‘হেয়ার মাস্ক’ ব্যবহার করতে হবে।
চুল কুসুম গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার আর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধোয়া: কুসুম গরম পানি দিয়ে চুল পরিষ্কার করা হলে তা মাথার ত্বকের রোমকূপ উন্মুক্ত করতে সহায়তা করে। এটা আর্দ্রতা ও মাথায় ব্যবহৃত প্রসাধনী শোষণ করতে সহায়তা করে। আর পরে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে চুল ধোয়া প্রয়োজন কারণ এটা আর্দ্রতা আটকে রেখে রোমকূপ বন্ধ করতে সাহায্য করে।
চুলে তাপ প্রয়োগের আগে সুরক্ষার স্তর তৈরি: তাপের কারণে চুলে ক্ষতি হয়। এজন্য চুলে তাপীয় যন্ত্র ব্যবহারের সময় ‘হিট প্রোটেক্টর’ বা চুলের সিরাম ব্যবহার করতে হবে। চুলে ব্যবহৃত সরঞ্জামের তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে। এতে চুলের আগাফাটা ও ভেঙে যাওয়ার সমস্যা কমবে।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান এবং ভিটামিন চুলের দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি, দ্রুত চুল বড় হওয়াতে সাহায্য করে। এজন্য পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি শরীরচর্চা করার অভ্যাস গড়তে হবে।

ঘুমানোর সময় চুলের সুরক্ষা: সিল্কের বালিশ কভার মসৃন হয়। তাই এই ধরনের কভার দেওয়া বালিশে ঘুমালে চুলের ওপর চাপ কম পড়ে। ফলে চুলের আগাফাটা, ভঙ্গুরতা ও ক্ষয় হওয়ার সম্ভাবনা কমে। চুল খুব বেশি শক্ত করে বাঁধা ঠিক নয়। এতে মাথার ত্বকের টান পড়ে। ফলে চুল ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে।

স্বাস্থ্যকর উপায়ে চুল শুকানো: চুল শুকানোর জন্য খুব বেশি জোরে না ঘষে মিহি তোয়ালে দিয়ে হালকাভাবে মুছে নিতে হবে। ড্রায়ার ব্যবহার করতে চাইলে মাথার ত্বক থেকে কম পক্ষে ৬ ইঞ্চি দূর থেকে ব্যবহার করতে হবে। ড্রায়ার ব্যবহার করার সময় খেয়াল রাখবেন যেন এক জায়গায় অনেকক্ষণ তাপ প্রয়োগ করা না হয়। এতে চুলের ক্ষতি হতে পারে।

মাথার কাছে মোবাইল রাখার ক্ষতিকর প্রভাব

/ No Comments
বর্তমানে বিজ্ঞান পুরো বিশ্বকেই আমাদের হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। মোবাইল ফোনে মুহূর্তেই সারা বিশ্বের খবর আমরা জানতে পারি। তাই কাজ থাকুক আর নাই থাকুক একটু পরপর মোবাইল দেখা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ফলে মোবাইলটাকে আমরা সব সময় নিজের সাথে রাখতে পছন্দ করি এমনকি ঘুমের সময়ও।

কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, মোবাইল ফোন যত বেশি শরীরের কাছাকাছি রাখা হয় স্বাস্থ্য ঝুঁকি তত বেশি। মোবাইল ফোন থেকে যে রেডিয়েশন সব সময় বের হয় তা শরীরের কোষের বিকাশের বাধা সৃষ্টি করে। ফলে নানা ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

মোবাইলে অ্যালার্ম সেট করার পর থেকে বন্ধ করার আগমুহূর্ত পর্যন্ত এটি থেকে রেডিও ট্রান্সমিশন বের হতে থাকে। তাই ঘুমাবার আগে মাথার কাছে মোবাইল রাখলে এ অদৃশ্য তরঙ্গ শরীরে ও মস্তিষ্কের ক্ষতি সাধন করে।

অতিরিক্ত সেলফি পোস্ট আত্মকেন্দ্রিক ও একাকিত্বের লক্ষণ

/ No Comments
স্মার্টফোন আছে, কিন্তু কোনো দিন সেলফি তোলেননি- এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুস্কর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম খুললেই দেখা যায়, কেউ না কেউ সেলফি তুলে পোস্ট করেছেন। এছাড়া পথে ঘাটে, মাঠে, শপিংমলে, ড্রয়িংরুমে, বিয়েবাড়ি, পিকনিকসহ নানা অনুষ্ঠানে সেলফি তোলা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। কিন্তু অতিরিক্ত সেলফি পোস্ট করার অভ্যাসকে মোটেও ভাল চোখে দেখছেন না ওয়াশিংটন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিদরা।

সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সেলফি পোস্ট করলে তাকে কম আকর্ষণীয় মনে করতে পারেন অন্যরা। সেলফি ভরা সোশ্যাল মিডিয়া গ্যালারি দেখে সেই ব্যক্তি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও ধরে নেয় মানুষ।

সেলফি আর অন্য কারও তুলে দেওয়া ছবি, এই দুই ধরনের পোস্ট আছে এমন ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নিয়ে সমীক্ষা করা হয়। তাতেই উঠে আসে এমন তথ্য। দুটি পর্যায়ে সমীক্ষাটি করা হয়। প্রথমে ৩০ জন ছাত্র-ছাত্রীর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নির্বাচন করেন মনোবিদরা। তারপর সেই অ্যাকাউন্টগুলির স্ক্রিনশট নেওয়া হয়। এরপর সেই স্ক্রিনশট দেখানো হয় ১১৯ জন ছাত্রছাত্রীকে। ৩০টি অ্যাকাউন্টের ছবি দেখিয়ে আত্মসম্মান, সাফল্য, একাকিত্ব ইত্যাদি বিষয়ে আন্দাজ করে নম্বর দিতে বলা হয় ওই ১১৯ জন ছাত্রছাত্রীদের। সমীক্ষার শেষে দেখা যায়, প্রচুর সেলফি আছে, এমন অ্যাকাউন্টগুলির বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীরা। অতিরিক্ত সেলফি আত্মকেন্দ্রিকতা, আত্মবিশ্বাসের অভাব ও একাকিত্বের লক্ষণ বলে মত প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

টানা ৮-৯ ঘণ্টা এসিতে থাকলে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি

/ No Comments
দিন যতই যাচ্ছে, ততই আমরা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। এখন শুধু অফিস-আদালতেই নয়, বাসাতেও এয়ারকন্ডিশন ছাড়া আমাদের চলেই না। দিনের পর দিন এর ওপর অভ্যস্ত হয় পড়ছি আমরা। এতে বিপদও বাড়ছে। কারণ টানা ৮-৯ ঘণ্টা এসিতে থাকলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায় বলেই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

 এসিতে থাকলে কোন কোন স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়- 

শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ

যারা দিনের বেশিরভাগ সময় বা অন্তত টানা ৯-১০ ঘণ্টা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে কাটান, তাদের মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের নানা সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। অতিরিক্ত এসির ব্যবহার শ্বাসতন্ত্রের নানা সংক্রমণকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

চোখের সমস্যা

অতিরিক্ত এসির ব্যবহার কনজাংটিভাইটিস (conjunctivitis) এবং ব্লেফারাইটিস-এর (blepharitis) মতো চোখের একাধিক সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। এ ছাড়া যারা চোখে লেন্স ব্যবহার করেন, তাদেরও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

স্নায়ুর সমস্যা

অতিরিক্ত এসির ব্যবহার বেশ কয়েকটি রোগের প্রকোপকে বাড়িয়ে দিতে পারে। যারা দিনের বেশিরভাগ সময় বা অন্তত টানা ৯-১০ ঘণ্টা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে কাটান, তাদের মধ্যে আর্থাইটিস, ব্লাড প্রেসার বা নানা ধরনের স্নায়ুর সমস্যা অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে।

অ্যালার্জির সমস্যা অতিরিক্ত এসির ব্যবহার বা দীর্ঘক্ষণ এসিতে থাকার ফলে অনেকের অ্যালার্জির সমস্যাও মারাত্মকভাবে বেড়ে যেতে পারে।

ত্বকের সমস্যা

দীর্ঘক্ষণ এসিতে থাকার ফলে ত্বক তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে। ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় এবং ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মানসিক অবসাদ

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মানুষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে দীর্ঘক্ষণ থাকেন, তারা মাথা ব্যথা বা মানসিক অবসাদের মতো সমস্যায় বেশি ভোগেন।

কাজেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে নিজেকে সুস্থ রাখতে যা করবেন-

ঘরের তাপমাত্রা ২১-২৫ ডিগ্রির মধ্যে রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, ঘরের তাপমাত্রা যেন কখনোই ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম না থাকে। আর শীতের মরসুমে এসি ব্যবহার না করাই ভালো। একই সঙ্গে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে ময়েশ্চারাইজিং লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করুন।মাঝে মধ্যেই মুখে, হাতে পানি দিন। প্রয়োজনে হালকা চাদর গায়ে জড়িয়ে রাখুন।

হেঁচকি কেন উঠে, থামাবেন কীভাবে?

/ No Comments

খাবার খাওয়ার সময়, গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজের মধ্যে অথবা অবসর কাটানোর সময় হঠাৎ হেঁচকির প্রকোপ শুরু হওয়াটা খুব সাধারণ একটি বিষয়। এমনকি কোনো কারণ ছাড়াই যখন তখন মানুষের হেঁচকি শুরু হলে তা নিয়ে অবাক হওয়ার কিছু নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিপাকতন্ত্রের গোলমালের কারণেই মানুষের হেঁচকি আসে।

মানুষের হেঁচকি আসে কেন?


বিজ্ঞানীরা শত শত বছর ধরে আপাতদৃষ্টিতে ক্ষতিহীন এই শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যার সুনির্দিষ্ট কারণ খোঁজার চেষ্টা করেছেন। হেঁচকির সময় শ্বাসনালীতে সামান্য খিঁচুনির মত হয় যার ফলে শ্বাসযন্ত্রে দ্রুত বাতাস প্রবেশ করে। তখন ভোকাল কর্ড হঠাৎ বন্ধ হয়ে 'হিক' শব্দ তৈরি হয়। ফুসফুসের নীচের পাতলা মাংসপেশীর স্তর, যেটিকে ডায়াফ্রাম বলে, হঠাৎ সংকোচনের ফলেই হেঁচকি তৈরি হয়।

হেঁচকি ওঠার একশো'র বেশি মেডিক্যাল কারণ থাকতে পারে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেগুলো খুবই সামান্য কারণেই হয়ে থাকে।

ওষুধ নির্মাতা সংস্থা অ্যাকমে'র সিনিয়র ম্যানেজার ও চিকিৎসক আফরোজা আখতার বলেন, "হেঁচকির সবচেয়ে সাধারণ কারণ দ্রুত খাবার গ্রহণ করা।"

দ্রুত খাওয়ার কারণে খাবারের সাথে সাথে পেটের ভেতর বাতাস প্রবেশ করার কারণে 'ভ্যাগাস' নার্ভের কার্যকলাপ বাধাগ্রস্ত হয়, ফলে হেঁচকি তৈরি হয়। চেতনানাশক, উত্তেজনাবর্ধক, পার্কিনসন্স রোগ বা কেমোথেরাপির বিভিন্ন ধরণের ওষুধ নেয়ার ফলেও হেঁচকি তৈরি হতে পারে। এছাড়া কিছু অসুখের ক্ষেত্রেও মানুষের হেঁচকি হতে পারে।

মিজ. আখতার বলেন, "কিডনি ফেল করলে, স্ট্রোকের ক্ষেত্রে, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস বা মেনিনজাইটিসের ক্ষেত্রেও অনেকের হেঁচকি তৈরি হতে পারে।"

কিন্তু অধিকাংশ সময়ই হেঁচকি শুরু হওয়ার জন্য এসব কোনো কারণেরই দরকার হয় না।

হাসি বা কাশির মধ্যে, অতিরিক্ত মদ্যপান, অতিদ্রুত খাবার গ্রহণ করা বা ঝাঁঝসহ পানীয় বেশি পরিমাণে খেলে হেঁচকি শুরু হতে পারে, তবে কোনো ধরণের কারণ ছাড়াও হেঁচকি আসাটা একেবারেই অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। হেঁচকি ওঠাটা খুবই স্বাভাবিক একটি ঘটনা এবং সাধারণত মিনিটখানেকের মধ্যেই তা স্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তবে অতিরিক্ত মাত্রায় হেঁচকির উদাহরণও কিন্তু রয়েছে।

যেমন সবচেয়ে বেশি সময় ধরে হেঁচকি ওঠার বিশ্ব রেকর্ডের উদাহরণ হিসেবে মনে করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের চার্লস অসবোর্নের ঘটনাকে। ১৯২২ সালে হেঁচকি তোলা শুরু করেন তিনি, কথিত আছে সেসময় তিনি একটি শূকর ওজন করার চেষ্টা করছিলেন। মি. অসবোর্ন হেঁচকি তোলা থামান ১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারিতে - মোট ৬৮ বছর পর।

হেঁচকি থামানোর উপায়

ঘরোয়াভাবে হেঁচকি থামানোর প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে মূলত দুইটি মূলনীতি অনুসরণ করা হয়। একটি হলো রক্তে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া যেন শ্বাসনালীতে খিঁচুনি বন্ধ হয়। আরেকটি হলো শ্বাসপ্রশ্বাস ও গলধকরণের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা 'ভ্যাগাস' স্নায়ুকে উদ্দীপ্ত করা। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী কয়েকটি পদ্ধতিতে হেঁচকি থামানো যায়।

১. কাগজের ব্যাগে নিশ্বাস ফেলা (ব্যাগ মাথা দিয়ে ঢুকাবেন না)

২. দুই হাঁটু বুক পর্যন্ত টেনে ধরে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়া

৩. বরফ ঠাণ্ডা পানি খাওয়া

৪. কিছু দানাদার চিনি খাওয়া

৫. লেবুতে কামড় দেয়া বা একটু ভিনেগারের স্বাদ নেয়া

৬. স্বল্প সময়ের জন্য দম বন্ধ করে রাখা

কখন চিকিৎসার পরামর্শ নিতে হবে

হেঁচকি সাধারণত আপনা থেকেই ভাল হয়ে যায়, তবে যদি অতি দীর্ঘসময় ধরে হেঁচকি উঠতে থাকে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।

মিজ. আখতার বলেন, "হেঁচকি নিরাময়ে ঘরোয়া চিকিৎসা যদি কাজ না করে সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।"

হেঁচকির তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন মিজ. আখতার। এছাড়া নিয়মিত হেঁচকিতে দৈনন্দিন জীবনের কার্যক্রম ব্যহত হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার উপদেশ দেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র : বিবিসি।

দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়ার লক্ষণ জানুন

/ No Comments

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ধীরে হাঁটে তাদের মস্তিষ্ক ও শরীরের বয়স বেশি বেড়ে গেছে। চল্লিশ বছর বয়সে আপনি কত দ্রুত হাঁটতে পারেন তা বলে দেবে আপনার মগজ এবং শরীরের বয়স কত দ্রুত বাড়ছে বা বাড়ছে না- এ তথ্য দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

হাঁটার গতির ওপর সহজ এক পরীক্ষা চালিয়ে গবেষকরা কতো দ্রুত বয়স বাড়ছে সেটা পরিমাপ করতে সক্ষম হয়েছেন।

যারা ধীরে হাঁটেন তারা যে শুধু তাড়াতাড়ি বুড়িয়ে যান তাই নয়, তাদের মুখও দেখায় বুড়োটে এবং তাদের মস্তিষ্কের আকৃতিও ছোট হয়ে যায়।

আন্তর্জাতিক গবেষকদের দলটি বলেছে, তাদের এই গবেষণার ফলাফল ''দারুণ চমকপ্রদ।''

চিকিৎসকরা সাধারণত হাঁটার গতি ও ভঙ্গী দেখে কারো স্বাস্থ্যের সার্বিক অবস্থা বুঝতে পারেন, বিশেষ করে ৬৫ বছরের বেশি বয়স যাদের। কারণ হাঁটার গতিপ্রকৃতি থেকে মাংসপেশীর শক্তি, ফুসফুসের সুস্থতা, মেরুদণ্ডের শক্তি এবং দৃষ্টিশক্তির উজ্জ্বলতা বোঝা যায়।

বৃদ্ধ বয়সে হাঁটার গতি ধীর হয়ে যাওয়ার সাথে স্মৃতিভ্রমের যোগাযোগও করেছেন কোন কোন বিজ্ঞানী।

'সমস্যার লক্ষণ'

এই গবেষণা চালানো হয়েছে নিউজিল্যান্ডে এক হাজার লোকের ওপর। যাদের জন্ম ১৯৭০ এর দশকে। ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত তাদের সবরকম তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের হাঁটার গতিপ্রকৃতির ওপর পরীক্ষা চালানো হয় আরো আগে থেকে।

এই গবেষণায় যারা অংশ নিয়েছিলেন তাদের বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষা করা হতো, বিভিন্ন সময়ে তাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার পরীক্ষা নেয়া হতো এবং মস্তিষ্কের বিভিন্ন স্ক্যান করা হতো। তাদের শিশু বয়স থেকে প্রতি দুই বছর অন্তর বুদ্ধিবৃত্তি ও চিন্তাশক্তির সক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখা হতো।

''এই গবেষণায় দেখা গেছে বৃদ্ধ বয়স হওয়ার আগেই ধীরগতিতে হাঁটা সমস্যার প্রতি একটা ইঙ্গিত,'' বলছেন লণ্ডনের কিংস কলেজ এবং আমেরিকার ডিউক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং এই গবেষণা পত্রের প্রধান লেখক টেরি মফিট।

তিনি বলছেন, এমনকী ৪৫ বছর বয়সী যারা ধীরে হাঁটেন তাদের মধ্যেও হাঁটার গতিতে বিস্তর ফারাক দেখা যায়।

তবে তার কথায় মোদ্দা বিষয়টা হলো, যাদের হাঁটার গতি যত ধীর হয়ে যায় তাদের বয়স বাড়ার প্রক্রিয়াও তত দ্রুততা পায়। তাদের ফুসফুসের ক্ষমতা, দাঁতের অবস্থা এবং রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা যারা দ্রুত হাঁটেন তাদের থেকে খারাপ হয়ে যায়।

এই গবেষণায় সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত যে ফলাফল পাওয়া গেছে তা হলো মস্তিষ্কের স্ক্যান থেকে দেখা গেছে যাদের হাঁটার গতি যত ধীর হয়ে গেছে, তাদের মস্তিষ্কের বয়স তত বেশি বেড়ে গেছে।

গবেষকরা আরো দেখেছেন, মাত্র তিন বছর বয়সে মানুষের বুদ্ধি, ভাষা ও স্নায়বিক দক্ষতা পরীক্ষা করে তারা নির্ধারণ করতে পারেন ৪৫ বছর বয়সে তাদের হাঁটার গতি কী হবে।

তারা বলছেন, চল্লিশের বেশি বয়সে যাদের হাঁটার গতি ধীর হয়ে যায়, শিশুকালে তাদের আই.কিউ. (বুদ্ধিমত্তার মাপকাঠি) যারা ৪৫ বছরেও দ্রুত হাঁটেন তাদের থেকে ১২ পয়েন্ট কম ছিল।

'জীবনযাপনের সাথে যোগাযোগ'

আন্তর্জাতিক গবেষক দল তাদের গবেষণা ফলাফলে লিখেছেন, স্বাস্থ্য এবং বুদ্ধিমত্তার মধ্যে পার্থক্যের একটা কারণ শিশুকাল থেকে জীবনযাপনের মান। জীবনের শুরুতে যারা ভাল মানের জীবনযাপনের সুযোগ পেয়েছেন তাদের বুদ্ধিমত্তা ও স্বাস্থ্যের ওপর তার একটা প্রভাব পড়েছে।

গবেষকরা বলছেন, অল্প বয়সে হাঁটার গতি পরিমাপ করে মানুষের বয়স বাড়ার প্রক্রিয়াকে ধীরগতি করার পদ্ধতি বা চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা সম্ভব।

নিচু ক্যালরির খাবার খাওয়া থেকে শুরু করে মেটফরমিন জাতীয় ওষুধ খাওয়ার উপযোগিতা নিয়ে এখন গবেষণা চালানো হচ্ছে।

তারা বলছেন, এই গবেষণার ফলাফল বয়স কম এবং স্বাস্থ্য ভাল থাকা অবস্থায় মানুষকে মস্তিষ্কের বয়স বাড়া বা সাধারণভাবে স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য জীবনযাপনের মান বদলানোর বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে সাহায্য করবে।

মোটা হওয়া নিয়ে যে সাতটি ভুল ধারণা রয়েছে

/ No Comments

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালের পরে বিশ্বে স্থূলতার হার প্রায় তিনগুণ বেড়ে গেছে।

জাতিসঙ্ঘের এই এজেন্সি ধারণা করছে, ২০১৬ সালে বিশ্বে ১৯০ কোটির বেশি মানুষের ওজন অতিরিক্ত ছিল, যাদের মধ্যে ৬৫ কোটি মানুষ স্থূলতা রয়েছে।


এই সংখ্যা থেকে বোঝা যায় কেন নানা ক্ষেত্রের মানুষজন 'স্থূলতার মহামারি' শব্দ ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে এই রোগে প্রতি বছর কমপক্ষে ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।

বিজ্ঞানী এবং নীতি নির্ধারকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যেভাবে স্থূলতার বিষয়টি মোকাবেলা করা হচ্ছে তা ভুল এবং কুসংস্কার নির্ভর হয়ে পড়েছে। কিন্তু মোটা হওয়া বা স্থূলতার বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যা?

এসব প্রশ্নের উত্তর হয়তো আপনাকে অবাক করে দেবে।

'স্থূলতা একটি রোগ, পছন্দের ব্যাপার নয়'

স্থূলতা মহামারিতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত দেশের অন্যতম হলো যুক্তরাষ্ট্র।

আমেরিকান স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ধারণা করছেন যে, দেশটির ৩৬ শতাংশের বেশি জনগোষ্ঠী এখন স্থূলতায় ভুগছে। ২০১৩ সাল থেকে স্থূলতাকে একটি রোগ হিসাবে বিবেচনা করে আসছে আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন।

তা সত্ত্বেও, ২০১৮ সালেও চিকিৎসকদের সংবাদ পোর্টাল 'মেডস্কেপে'র জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ৩৬ শতাংশ চিকিৎসক আর ৪৬ শতাংশ সেবিকা এটিকে রোগ বলে মনে করেন না। ৮০ শতাংশ চিকিৎসক উত্তর দিয়েছেন যে, স্থূলতার পেছনের বড় কারণটি হলো জীবনযাপনের ধারা।

তবে ব্রিটিশ সাইকোলজিক্যাল সোসাইটি থেকে গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থূলতা কোন পছন্দের ব্যাপার নয়।

''শারীরিক এবং মানসিক কিছু বিষয় পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাবের সঙ্গে একত্রিত হয়ে মানুষের অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা কারণ তৈরি হয়।'' ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

'স্থূলতাকারো ইচ্ছা অনিচ্ছার ব্যাপার নয়।'

১৯৯০ এর দশক থেকেই বিজ্ঞানীরা ধারণা করে আসছেন যে, স্থূলতার সাথে বংশগত সম্পর্ক রয়েছে।

গত জুলাই মাসে নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির একদল গবেষক আবিষ্কার করেন যে, যাদের পরিবারের পূর্বে স্থূলতার ইতিহাস রয়েছে, তাদের বংশধরদের মধ্যে এটির বিস্তারের ঝুঁকিও বেশি। যা সাম্প্রতিক দশকগুলোয় অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে।

উচ্চতার সাথে ওজন মিলিয়ে সহজেই বুঝতে পারা যায় যে, আমাদের ওজন ঠিক এবং স্বাস্থ্যসম্মত আছে কিনা।

ওই দলটি নরওয়ের এক লাখ ১৯ হাজার মানুষের ওপর গবেষণা করেছে, যারা নিয়মিতভাবে তাদের উচ্চতার সাথে ওজন মেপেছেন। সেখানে দেখা গেছে, সময়ের সাথে সাথে উচ্চতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের ওজন বেড়েছে। কিন্তু জিনগত কারণে কিছু মানুষের ওজন অতিরিক্ত বেড়ে গেছে।

''বর্তমানে ৩৫ বছর জিনগত প্রবণতার কারণে বয়সী একজন গড় উচ্চতার নরওয়েজিয়ানের ওপর প্রায় সাত কেজি বেশি হয়ে থাকে, যা অন্যদের ক্ষেত্রে দেখা যায় না,'' বলছেন মারিয়া ব্রান্ডকভিস্ট, ওই দলের একজন গবেষক।

'অতিরিক্ত ওজন সবসময়ের জন্য অস্বাস্থ্যকর'

অতিরিক্ত ওজন এবং স্বাস্থ্যগত জটিলতার ব্যাপারটি অনেকেরই জানা এবং অনেকটাই প্রমাণিত একটি ব্যাপার।

তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রশ্ন উঠেছে যে, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা সবসময়েই কারো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কিনা?

২০১২ সালে ইউরোপিয়ান সোসাইটি অফ কার্ডিওলোজি বড় একটি গবেষণার প্রতিবেদন প্রকাশ করে যেখানে স্থূলতা নিয়ে প্রচলিত কিছু ধারণার বিপরীত তথ্য তুলে ধরা হয়।

সেখানে দেখা যায় যে, কিছু মানুষের স্থূলতা থাকলেও সত্ত্বেও হজমের দিক থেকে স্বাস্থ্যবান এবং সুস্থ রয়েছেন, সাধারণ মানুষের তুলনায় হৃদরোগ বা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার কোনো ঝুঁকিতে নেই। তারা উচ্চ কোলেস্টেরল, রক্তচাপে ভোগেন না এবং অন্য স্থূল মানুষদের চেয়ে অনেক বেশি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকেন।

অনেকগুলো দীর্ঘস্থায়ী রোগের সাথে স্থূলতার সম্পর্ক রয়েছে বলে সবাই জানে, যেমন হৃদরোগ ও ক্যান্সার। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, স্থূল মানুষদের মধ্যেও এমন কিছু মানুষ আছেন যাদের এরকম বিপাকীয় জটিলতায় ভুগতে হয় না। লিখেছেন ইউনিভার্সিটি অফ গ্রানাডা ইন স্পেনের অধ্যাপক ফ্রান্সিসকো অর্টেগা, যিনি ওই প্রতিবেদনের প্রধান লেখক।

''চিকিৎসকদের এই বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া উচিত যে, সব স্থূল মানুষের একই ধরণের সমস্যা থাকে না।''

'সব ক্যালোরি একই রকম'

ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে 'বেশি না খাওয়া' নীতি হচ্ছে সবচেয়ে ভালো নীতি। কিন্তু খাবারের ক্ষেত্রে ক্যালোরির পরিমাপের চেয়ে ক্যালোরির মানের বিষয়টি কি বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত নয়?

স্বাস্থ্যকর খাবারের বর্ণনা করতে গিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছেন, একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গ্রহণ করা ক্যালোরির পরিমাণ হওয়া উচিত ২০০০ ক্যালোরি। কিন্তু সেখানে সতর্কবাণীও আছে। সংস্থাটি পরামর্শ দিয়েছে যে, ওই ক্যালোরির ৩০ ভাগেরও কম আসা উচিত চর্বিযুক্ত খাবার থেকে।

২০১১ সালের হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, 'ক্যালোরি মানে শুধু ক্যালোরি নয়' এবং কিছু খাবারের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ওজন বাড়তে পারে।

গবেষকরা চারবছর পর পর এক লাখ ২০ হাজার স্বাস্থ্যবান পুরুষ ও নারীর ওপর গবেষণা করেছেন যাদের বয়স সর্বোচ্চ বিশ বছর।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা প্রতি চার বছরে গড়ে ১.৫২ কেজি ওজন বেড়েছে আর পুরো বিশ বছরে ওজন বেড়েছে ৭.৬ কেজি।

ওজন বাড়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে প্রক্রিয়াজাত খাবার, পরিশোধিত শস্য, চর্বি এবং চিনি। শুধুমাত্র ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খাওয়ার কারণে প্রতি চার বছরে দেড় কেজি ওজন বেড়েছে। অন্যদিকে বেশি পরিমাণে সবজি খাওয়ার কারণে ওজন উল্টো ০.০৯ কেজি কমে গেছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ''কম ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়ার কৌশল সবচেয়ে ভালো কাজ দেবে তখনি যখন, বিশেষ কিছু খাবার এবং পানীয় কম (বা বেশি) পরিমাণে খাওয়া হবে।''

'ওজন কমানো নিয়ে হতাশা এড়াতে হলে আমাদের অবশ্যই বাস্তববাদী হতে হবে।'

অনেক বেশি প্রত্যাশা করা না হলে সেটি জীবনের জন্য একটি ইতিবাচক দিক হতে পারে।

তবে গবেষণা বলছে, উচ্চকাঙ্খী লক্ষ্যমাত্রা এর ওজন কমানোর ক্ষেত্রে নেতিবাচক কোন সম্পর্ক নেই।

আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ নিউট্রিশন এন্ড ডায়েটিক্স এর একটি জার্নালে ২০১৭ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, মারাত্মক স্থূলতায় ভোগা ৮৮জন ব্যক্তির মধ্যে ওজন কমানোর উচ্চাকাঙ্ক্ষা অনেক ভালো ফল এনেছে।

'শুধুমাত্র ধনী দেশগুলোয় স্থূলতার সমস্যা আছে'

অবশ্যই উন্নত দেশগুলোয় স্থূলতার হার অনেক বেশি, কিন্তু বিশ্বের স্থূলতার তালিকার দিকে তাকালে অনেককেই অবাক হতে হবে।

স্থূলতার ব্যাপকতার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হলো প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ, আমেরিকান সামোয়া, যেখানে বাসিন্দাদের ৭৫ শতাংশই স্থূলতায় আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়।

এটা সত্যি যে এসব দ্বীপের মানুষদের সংখ্যা অনেক কম। কিন্তু বেশি জনগোষ্ঠী রয়েছে, এমন উন্নয়নশীল দেশ- যেমন মিসর ও তুরস্কে-৩২ শতাংশ মানুষ স্থূলতায় ভুগছে (২০১৬ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য।)

''সামাজিক বৈষম্যের কারণে তৈরি হওয়া অন্যতম একটি জিনিস হলো স্থূলতা। যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি স্থূলতার রাজ্য হলো আরাকানসাস, যেটি দেশের চতুর্থ গরিব রাজ্য। সবচেয়ে দরিদ্র রাজ্য মিসিসিপি স্থূলতার দিক থেকে তৃতীয় অবস্থায় রয়েছে।'' বলছেন মার্টিন কোহেন, যিনি 'খাবার আগে আমি ভাবি' নামের বই লিখেছেন।

যুক্তরাজ্যে ২০১৫-২০১৬ সালের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবার তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে যে, সচ্ছল এলাকাগুলোর তুলনায় সবচেয়ে অসচ্ছল এলাকা গুলোয় বসবাসকারী শিশুদের মধ্যে স্থূলতার হার প্রায় দ্বিগুণ।

গবেষকরা বলছেন, এই তারতম্যের প্রধান কারণ হলো, স্বাস্থ্যকর খাবারের দাম অনেক বেশি।

'বুকের দুধের সাথে স্থূলতার কোনো সম্পর্ক নেই'

গত কয়েক দশক ধরে বুকের দুধের বিকল্প হিসাবে গুড়া দুধের ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে।

কিন্তু গত এপ্রিল মাসে প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় জানা যাচ্ছে যে, বুকের দুধ খাওয়ার কারণে শিশুর স্থূল হওয়ার ঝুঁকি অনেকটা কমে যেতে পারে।

ইউরোপের ১৬টি দেশের তিন লাখ শিশুর ওপর গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন, যে শিশুরা কখনো বুকের দুধ খায়নি, তাদের স্থূল হওয়ার সম্ভাবনা ২২ শতাংশ বেড়ে গেছে।

যদিও বিশেষজ্ঞরা এটাও বলছেন, যে নারী বুকের দুধ খাওয়াবেন, তার স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ব্যাপারটিও এক্ষেত্রে অনেকটা ভূমিকা রাখে। তারপরেও স্থূলতার বিরুদ্ধে বুকের দুধের ভূমিকা অকাট্য, বলছেন গবেষক জায়ো ব্রেডা।

''বুকের দুধের সত্যিই অনেক সুরক্ষা গুণ রয়েছে। সেসব প্রমাণ রয়েছে। এর সুবিধা যে এতো অসামান্য সেটি মানুষকে জানানো উচিত।''

খাবারে ফরমালিন দূর করবেন যেভাবে

/ No Comments

ফরমালিন ছাড়া কোনো খাবার পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে। ফরমালিনযুক্ত খাবার খেয়ে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। আজকাল ফল থেকে শুরু করে মাছ, মাংস, শাক-সবজি, এমনকি দুধে পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে এই রাসায়নিক।

ফরমালিন হলো ফরমালডিহাইডের পলিমার। ফরমালডিহাইড দেখতে সাদা পাউডারের মতো। ফরমালিন বস্তুটা মূলত টেক্সটাইল, প্লাস্টিক, পেপার, রং, কনস্ট্রাকশন ও মৃতদেহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়। ফরমালিনে ফরমালডিহাইড ছাড়াও মিথানল থাকে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

অনেকের ধারণা, ১৫ থেকে ২০ মিনিট বিশুদ্ধ পানিতে ডুবিয়ে রাখলে খাদ্যদ্রব্য থেকে ফরমালিন দূর হয় বা কমে যায়। আসলে কমলেও তা অতটা কার্যকর নয়। তারচেয়ে বরং কাঁচা অবস্থায় খাবার থেকে ফরমালিন অপসারণ করতে চাইলে পানির কল ছেড়ে তার নিচে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রাখতে হবে। কারণ কাঁচা সবজি ও ফলের ত্বকে অসংখ্য ছোট ছোট ছিদ্র রয়েছে। আর পানিতে ডুবিয়ে রাখলে ফরমালিন আরও ভালোভাবে খাবারে মিশে যেতে পারে। তাই পানির কল ছেড়ে তার নিচে নির্দিষ্ট খাবার দ্রব্য বা ফলটি রেখে দিন।

ভিনেগার বা লেবুর রসে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রেখেও ফরমালিন দূর করা যায়। আগুনের তাপে ফরমালিন অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। তাই রান্নার আগে ফরমালিন কমানোর পদ্ধতি ব্যবহার করে রান্না করলে খাবার পুরোপুরি ফরমালিন মুক্ত করা সম্ভব।

উদ্বিগ্নতা থেকে দূরে থাকার উপায়

/ No Comments

অন্যের জন্য ভালো কিছু করুন: সব ধরনের উদ্বিগ্নতা ও নেতিবাচক চিন্তা থেকে দূরের থাকার ভালো উপায় হলো অন্যের জন্য ভালো কিছু করা। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, আপনি যদি অন্যের জন্য ভালো কিছু করেন সেটি আপনার নিজের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এটি মস্তিষ্কের যে স্থানে মোটিভেশন ও রিওয়ার্ড সাইকেল আছে সেটিকে সক্রিয় করে।

নতুন ভাবে চিন্তা করুন: সামাজিক কিংবা অন্য যে কোনো ধরনের উদ্বিগ্নতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে আপনি যে ধরনের চাপের মুখোমুখি হচ্ছেন তা নতুনভাবে উপলব্ধির চেষ্টা করা। নিউইয়র্কের রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জেরেমি জেমিসন বলেন, আমরা মনে করি সব ধরনের চাপই খারাপ, সেটি ঠিক নয়।

ভয়ের মোকাবেলা করার চেষ্টা করুন: ভয়ের মোকাবেলা করার চেষ্টা করুন, সেগুলো থেকে লুকাবেন না। যারা সামাজিক উদ্বিগ্নতার শিকার হয় তারা পুনরায় সে পরিস্থিতিতে পড়তে চান না। সামাজিক কোনো অনুষ্ঠানে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়া চেক করেন কিংবা স্মার্টফোনে নানা বিষয় নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, সেটা ঠিক নয়। এটি করলে আপনি নিজের অজান্তেই আরও বেশি একাকী হয়ে পড়বেন, হীনমন্যতায় ভুগবেন। উদ্বিগ্নতা কাটিয়ে উঠতে যে পরিস্থিতি আপনার সামনে বাধা তৈরি করবে তা মোকাবেলা করার চেষ্টা করেন।

ধূমপান ছাড়ার সহজ কয়েকটি কৌশল!

/ No Comments
সুন্দর এই পৃথিবীতে বাঁচতে চাইলে ধূমপান অবশ্যই ছেড়ে দিন। কারণ ‘ধূমপান মৃত্যুর কারণ’। আর আমরা এটা সবাই জানি।
আজকাল দেশ-বিদেশে অনেক সিগারেটের প্যাকেটে এধরনের সতর্ক সংকেত লেখা হয়ে থাকে। “ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর”। মূলত ধূমপানের কুফল হিসেবে ফুসফুসের ক্যান্সার, হার্টের রক্তনালি সরু হয়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধি, মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে বাধা, যৌন ক্ষমতা হ্রাসসহ নানা প্রকার মারাত্মক ক্ষতিকর দিক রয়েছে।
আপনারা অনেকেই ধূমপান নামক এই ঘাতককে চিরতরে নির্বাসনে দিতে চান কিন্তু নানা কারণে ধূমপান আর ছাড়তে পারেন না। বিশেষজ্ঞগণ ধূমপানের আসক্তি থেকে নিজেকে রক্ষার কয়েকটি উপায় বলে দিয়েছেন। এসব অনুসরণ করলে অবশ্যই ধূমপান ছাড়া সম্ভব বলে মনে করা হয়।
তাই আসুন দেখে নিই ধূমপানের আসক্তি থেকে নিজেকে রক্ষার কয়েকটি উপায়:
  • প্রথমে সিদ্ধান্ত নিন কেন ধূমপান ছাড়া আপনার জন্য জরুরি।অর্থাৎ কি কারণে আপনি ধূমপান ছাড়তে চান। যেমন ক্যান্সার ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে।
  • নিকোটিনের বিকল্প হিসেবে গাম, লজেন্স ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে।
  • নিকোটিনের বিকল্প ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।
  • একা একা ধূমপান না ছেড়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্য (যদি ধূমপায়ী থাকেন), বন্ধু-বান্ধব ও সহকর্মীদের উৎসাহিত করে একসঙ্গে ধূমপান ত্যাগের ঘোষণা দিন।
  • মানসিক চাপ কমাতে চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে হালকা ম্যাসাজ নিন।
  • অ্যালকোহল পরিহার করুন।
  • মনোযোগ অন্যদিকে নিতে ঘরের কাজ করতে চেষ্টা করুন।
  • ধূমপান ত্যাগের জন্য বার বার চেষ্টা করুন।একবার ছেড়ে দিলে দ্বিতীয় বার আর ধূমপান করবেন না।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
  • প্রচুর পরিমাণ সবুজ শাক-সবজি ও রঙিন ফলমূল খান।
  • ধূমপান বন্ধ করে যে আর্থিক সাশ্রয় আপনার হবে তার একটা অংশ জনকল্যাণ অথবা হালকা বিনোদনে ব্যয় করুন।
  • আর ধূমপান ছাড়ুন বন্ধু-বান্ধব বা প্রেমিক-প্রেমিকাকে খুশি করার জন্য নয়, বরং আপনার সুস্বাস্থ্যের জন্যই এটা করেছেন।এমন জোরালো অবস্থান নিন।

ইস্ত্রি ছাড়াই যেভাবে কাপড় আয়রন করবেন

/ No Comments
জামা-কাপড় আয়রনের জন্য ইস্ত্রি ছাড়াও আছে অনেক উপায়। জানা খাকলে লেগে যেতে পারে যেকোন সময়। যেকোন সমস্যা ইস্ত্রি ছাড়াই করুন কাপড় আয়রন। এর মাধ্যমে কুচকানো জামা-কাপড়ও খুব সহজেই সমান করতে পারেন।


লোহার তৈরি তলা সমান যে কোনও একটি পাত্রে অল্প পানি ফুটিয়ে নিন। এবার ফুটন্ত পানি ফেলে দিয়ে, গরম পাত্রটি দিয়েই কুচকানো জামা-কাপড়ের উপর ইস্ত্রি চালানোর মতো করে ঘষে নিন। দেখবেন কুচকানো পোশাক সমান হয়ে যাবে।

হাতের কাছে হেয়ার স্ট্রেটনার থাকতে কুচকানো জামা-কাপড় সমান করতে ভাবনা কিসের! হেয়ার স্ট্রেটনার দিয়ে পোশাকের ভাঁজে ভাঁজে সমান ভাবে টেনে ঘষে নিন। জামা-কাপড়ে ইস্ত্রি করার মতোই ফল পাবেন।
কুচকানো জামা-কাপড়ের ভাঁজের উপর সামান্য ঠান্ডা পানি ছিটিয়ে তার উপরে কিছু ক্ষণ হেয়ার ড্রায়ার চালিয়ে নিন। দেখবেন কুচকানো পোশাক অনেকটাই সমান হয়ে গেছে।
কুচকানো জামা-কাপড় সমান করতে সাদা ভিনিগার অত্যন্ত কার্যকরী। ২ কাপ পানিতে ৩/৪ চামচ সাদা ভিনিগার মিশিয়ে নিন। এবার ওই মিশ্রণটি কুচকানো জামা-কাপড়ের ভাঁজে স্প্রে করে আলতো হাতে পোশাকটা একটু সমান করে ঘষে নিলেই পোশাকের কুচকানো ভাব অনেকটাই দূর হবে।

কেটলিতে অল্প পানি গরম করুন। পানি ফুটে উঠলে, কেটলির নীচের অংশটা দিয়ে সামান্য চাপ দিয়ে জামা-কাপড়ের কুচকানো অংশের উপর ঘষুন। দেখবেন জামা-কাপড়ে ইস্ত্রি করার মতোই হয়ে গেছে। এছাড়াও অনেক ওয়াশিং মেশিনে ‘আয়রনিং’ অপশন থাকে। এই ‘আয়রনিং’ অপশন কাজে লাগিয়েও জামা-কাপড় দিব্যি আয়রন করে নিতে পারেন।

সবসময় ইতিবাচক থাকার কয়েকটি উপায়

/ No Comments

আপনি আসলে কেমন ধরণের মানুষ? 
একটি গ্লাসে অর্ধেক পানি থাকলে আপনি এটিকে কিভাবে দেখেন? অর্ধেক খালি নাকি অর্ধেক ভর্তি? 

যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণা বলছে, আশাবাদী ব্যক্তিরা হতাশাবাদীদের চেয়ে অনেক বেশি দিন বাঁচেন।


এই তত্ত্ব মতে, আশাবাদীরা হয়তো নিজেদের আবেগকে অনেক সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন যা তাদেরকে মানসিক চাপের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখে। 

মার্কিন গবেষকরা বলছেন যে, হতাশাবাদী ব্যক্তিরা যদি নিজেদের এমন ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করতে পারেন যেখানে সব ধরণের সমস্যা দূর হয়ে যাবে, এমন দৃষ্টিভঙ্গিও তাদের জন্য উপকারী হতে পারে। 

মানুষ কিভাবে আশাবাদী হয় এবং হতাশা বাদীরা জীবন সম্পর্কে ইতিবাচক থাকতে কি কি করতে পারেন সে বিষয়ে কিছু উপায় সম্পর্কে জানবো আমরা। 

"নেতিবাচকতা নিয়ে পিছিয়ে থাকবেন না"
বলা হয় যে, "নদীর অপর পাশের ঘাস সব সময় একটু বেশি-ই সবুজ দেখায়"। কিন্তু এ ধারণা সবাইকে সমানভাবে তেমন প্রভাবিত করতে পারেনা।

সবারই সমস্যা থাকে। আমার জীবন যেমন, সেভাবেই একে উপভোগ করার চেষ্টা করা উচিত। আমার যা আছে তা নিয়েই সন্তুষ্ট আমার সন্তুষ্ট থাকা দরকার। ভালো স্বাস্থ্য, পরিবার, একজন ভালোবাসার জীবন সাথী আর পছন্দের একটি চাকরী এটুকুই অনেক সময় ভাল থাকার জন্য অনেক কিছু।"

উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তা কাটাতে বিশেষজ্ঞরা নিজেকে ব্যস্ত রাখা, এর পেছনের সমস্যা খুঁজে বের করা নিয়ে, এবং সেগুলো সমাধান করার পর কেমন অনুভব হয় তা নিয়ে ভাবতে পছন্দ করার প্রতি জোর দেন। 

বিশেষজ্ঞরা অন্যদের নেতিবাচকতাকে তেমন পাত্তা না দিতে পরামর্শ দেন , 

"হাস্যরস বোধ"
"গান আত্মাকে তৃপ্ত করে, হাস্যরস বোধ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নতুন ধারণা দেয় তা্হই বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত গান শুনতে পরামর্শ দেন। রস বোধ মানুষকে ইতিবাচক থাকতে সাহায্য করে।

"নিজের প্রশংসা করুন"
নিজেই নিজের প্রশংসা করা একটা ইতিবাচক দিক। এর মাধ্যমে নিজের মধ্যে থাকা আবর্জনা বের করে দেয়া যায়। প্রত্যেকের নিজের জন্য এটা খুবই সঠিক এবং সহায়ক।

"কষ্টের সময়ও হাসুন"
ডাচ সংস্কৃতিতে একটি প্রবাদ রয়েছে। আর তা হলো: "গেন গ্রোটার ফারমাক ডান লিডফারমাক" অর্থাৎ, "দুর্ভোগের চেয়ে বড় বিনোদন আর কিছু নেই," 

তাই আজ আপনাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস দিচ্ছি আর তা হলো, নিজের দুর্ভাগ্য নিয়ে হাসো। এটি মেনে চলো এবং দেখবে জীবন হবে একটি বড় ধরণের আনন্দোৎসব।

"অনেকগুলো শখ তৈরি করুন"
সব সময় ভালো থাকতে অনেক গুলো প্লান তৈরি করুন যাতে "প্ল্যান এ ব্যর্থ হলেও সব সময়ই প্ল্যান বি থাকে" একজন মানুষের সব চেয়ে বড় ইতিবাচকতা আসে তার অনেক ধরণের শখ আর নির্মল বায়ু থেকে।

"ব্যায়াম করুন এবং সুস্থ থাকুন"
বন্ধুত্ব আর হাসির মতোই উপকারী আরেকটি বিষয় রয়েছে ইতিবাচক থাকার। আর তা হল শারীরিক ব্যায়াম।

নিয়মিত ব্যায়াম করুনঅ স্বার্থপরতা ত্যাগ করুন কৃতজ্ঞ হোন, তালিকা তৈরি করুন এবং সেগুলো পালন করুন, যা করতে আপনার ভালো লাগে সেগুলোই করুন।